প্রবন্ধঃবিশ্বাস, অবিশ্বাস, ধর্ম অর্থনীতিঃ করোনা

বিশ্বাস, অবিশ্বাস, ধর্ম অর্থনীতিঃ করোনা
—-সাঈদুর রহমান লিটন

ছোট একটি দেশ বাংলাদেশ।নানা বর্ণের লোকের বসবাস।লোক সংখ্যার দিক দিয়ে অনেক বড়।এক লক্ষ সাত চল্লিশ হাজার পাঁচ শত সত্তর বর্গ কিলোমিটারের এই দেশ লোক সংখ্যা প্রায় আঠারো কোটি।তার মধ্যে সিংহ ভাগ মুসলমান অর্থাৎ প্রায় ৮৫ ভাগ মুসলমান বাকি হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও অন্যান্য ধর্মের অনুসারী মিলে ২০ ভাগ।
স্বভাবত কারণে মুসলমানদের আধিপত্য ও প্রতিপত্তি বেশি হওয়ার কথা।কিন্ত আমাদের দেশ অত্যন্ত শান্তিপ্রিয় দেশ।দুই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বাদে তেমন কোনো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা আমাদের দেশে কখনো সংঘটিত হয় নাই।আমাদের দেশ প্রধানেরা অত্যন্ত ধর্ম নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করেন সবসময় ।যার কারণে দেশের আলেম -ওলামাগণদের রোষাণলে পড়তে হয় মাঝে মাঝে।সরকার ও উভয় সংকটে পড়ে যায় কোনো কোনো সময়।সেই ভাবেই দেশে উনিশ শত একাত্তরের পর থেকে কালক্রমে এই শান্তির ধারা অব্যাহত রেখে চলে আসছে।বাংলাদেশের ইতিহাস বা রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আমার লেখার উদ্দেশ্য নয়।ওটা আমি তেমন ভাল বুঝি ও না।শুধু জানি সরকার যায় সরকার আসে।কখনো কখনো মাঠ গরম হয় আবার থেমে যায়। আমি এবার দেখছি দেশের মাঠ,ঘাট,পথ, প্রান্তর, হাট, বাজার গরম হচ্ছে কিন্তু থামার লক্ষণটি দেখছি না।বরঞ্চ দিন দিন বেড়েই চলছে উত্তাপ।মানুষের মধ্যে ও উৎকণ্ঠা দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে।মানুষ এক বড় রকমের ক্রান্তিলগ্নে পৌঁছে গেছে। সেখান থেকে পরিত্রাণ পাবার তেমন লক্ষণ চোখে পড়ছে না।এটা যে শুধু আমাদের দেশে তা নয়।সারা বিশ্ব ব্যাপি।এতক্ষণে হয়ত সামান্যতম ভাবে বুঝে উঠছেন আমি মারাত্মক ভাইরাস করোনার কথা বলতে চাচ্ছি। করোনা আজ মানুষের ঘুম হারাম করে দিয়েছে।পৃথিবীকে অচল করে দিয়েছে। থমকে দাঁড়িয়েছে আজ পুরো বিশ্ব।বেরিয়ে আসার কোনো পথ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।তার স্রোত আমাদের দেশেও বইছে।এবং দিন দিন মহামারীর দিকে এগিয়ে চলছে।

বাংলাদেশ ধর্মভীরু দেশ।ধর্মের জন্য এরা জীবন ও দিতে পারে।এমন অনেক নজির ও আছে দেশে।আমি সে দিকে যাব না।দেশের সব’চে যে বড় অংশ মুসলমান। যারা যে দিকে যাবে দেশটি সেই দিকে মোড় নিবে।মুসলমানরা ধর্ম বুঝুক আর না বুঝুক তারা ধর্মের ব্যপারে অন্ধ।অন্য ধর্মাবলম্বী যারা আছে তারাও এমননি তাদের ধর্মের ব্যাপারে।কিন্তু মুসলমানেরা যতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারে দেশে অন্যরা ততোটা পারেনা।তাই অন্যদের নিয়ে অতটা কথা আমি বলবো না।শুরুতে তাই সব ধর্মাবলম্বীদের আনুমানিক একটা পরিসখ্যান দিয়েছি।বলতে ছিলাম মুসলমানেরা ধর্মীয় বিধান জানুক আর নাই জানুক সবাই হুজুর নির্ভর।হুজুরেরা যে বয়ান দিবেন বা দিয়েছেন করোনা ভাইরাসের গতি সেই পানে ধাবিত হবে।
কেননা বাংলাদেশের জনগন হুজুর যা বলেছেন তা আল্লাহর কথা বলে বিশ্বাস করে।কারণ দেশের ৯০/ ৯৫ ভাগ মুসলমান মানুষ ধর্ম নিয়ে চর্চা করে না।হুজুরদের ওয়াজ বা ধর্মীয় বয়ানে বিশ্বাস করে জীবন পরিচালনা করে।তারা বিশ্বাস করে ধর্মীয় গ্রন্থ চর্চা করেই হুজুরেরা এসব মতবাদ দিয়ে থাকেন। হুজুরদের মত বাংলাদেশের মত। এর বাইরে গেলে জোর যবর দস্তি করা হবে।তাই মুসলমানদের বিশ্বাস এই পৃথিবীর যা কিছু হয় আল্লাহ করেন, গাছের পাতা নড়াচড়া করলেও আল্লাহর হুকুমে নড়াচড়া করে।মোটকথা সারা সৃষ্টি জগত সব খোদার নখদর্পনে। এবং এটাই সত্যি রোগ, শোক, বালা-মুসিবত, সব আল্লাহই নিয়ন্ত্রণ করেন। আল্লাহর হুকুমেই সমস্ত বালা মুসিবত দূর হয়ে যাবে।আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া পৃথিবীতে কোন কিছু ঘটেনি, আর কোন কিছু ঘটবেও না।আমি ধর্ম অতটা ভাল বুঝিনা।আমিও শুনে মুসলমান। কেননা আমি ও ধর্ম চর্চা করিনা।আমার অভিজ্ঞতা থেকে বললাম কথা গুলো।এটাই মনে হয় ইসলাম ধর্মের বিধান।এর বাইরে বিশ্বাস ও করা যাবে না।

করোনা রোগ বড় ধরণের ছোঁয়াচে রোগ।কারো সংস্পর্শে আসা যাবেনা।কারো একটু ছুঁয়ে দিলেন করোনা রোগ তারে সংক্রমণ করবে।মুসলমানদের ধর্মীয় প্রধান ভিত্তি সালাত আদায় করা এবং জামাতে পড়ার উপর অধিক গূরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
করোনা রুগী কারো ছুঁয়ে দিলে, যেখানে বসবে সেখানে অন্য কেউ বসলে,রুগীর হাঁচি-কাশির মাধ্যমে, যেখানে বসে ওযু করবে সেখানে অন্য কেউ অযু করলে, কোলাকুলি করলে, মসজিদের কোনো অংশ ছুঁয়ে দিলে, করোনা আক্রান্ত হবে।
কিন্তু কিভাবে বোঝা যাবে কে করোনা আক্রান্ত? পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়া জানার উপায় নাই।গ্রামের কয় জন লোকই বা অসুস্থ হলে পরীক্ষা করতে যায়।তাই সরকার কিছু নিয়ম করে সালাত আদায়ের কথা বলেছিলেন। কিন্তু সে নিয়ম পালন করতে গেলে তো ধর্মের বিরোধিতা করা হয়। করোনা তো আল্লাহই দূর করে দিবে।
দেশের মানুষ নানা অন্যায় অপকর্ম করেছে বলেই মহান খোদাতায়ালা এমন সব কঠিন রোগ দিয়ে থাকেন।
আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে তওবা করলেই তো সব করোনা চলে যাবে। কিন্তু মানুষ তা করছে না।করোনা ও কমছেনা।
মানুষ কে তাই মসজিদ থেকে আজো সরানো যায়নি। বাড়িতে নামাজ পড়লে নামাজ কত টুকু হয় সে আল্লাহ জানেন।তবে অনেকে নিজে বেঁচে থাকার জন্য বাড়িতে পড়েন। কিন্তু মোল্যা মৌলভীদের অনেক সময় চোখের কাঁটা হতে হয়েই পড়তে হয়।
তাহলে করোনা কোন দিকে যাচ্ছে।ধর্মের দোহাই তো করোনা মানছে না।হুজুর, ডাক্তার,কবিরাজ, পুলিশ, চকিদার প্রধানমন্তী ও মানছে না তার কাজ সে করছে। দেশে দেশে বিভিন্ন যায়গায় লকডাউন চলছে। ঘর থেকে বের হওয়া যাবে না, জনসমাগমে যাওয়া যাবে না। কোন কাজ করা যাবেনা। পেট তো থেমে থাকছে না।কাজ তো করতেই হবে।না হলে না খেয়ে মরতে হবে।সরকারের এত টাকা নেই জনগন কে বসিয়ে খাবার দিবে।দু একটু ত্রাণ দেওয়া শুরু হয়েছিল তা তো চোর বাটপারে বেশির ভাগ খেয়ে নিয়েছে। তাহলে মানুষ কি করবে।খেতে তো হবেই। না খেয়ে তো বাঁচা যাবেনা।তাহলে উপায়? যার যা আছে তাই নিয়ে কাজে নেমে পড়ছে। করোনা খুশি হচ্ছে। ইচ্ছে মত আক্রমন করছে।কেউ কারো কথা শুনছে না।মানুষ ঘর থেকে বেড়িয়ে পড়েছে। ক্ষুধা নিবারণের জন্য, পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য। আমাদের দেশটা গরীব দেশ।আমরা যতই বলি মধ্যম আয়ের দেশ, তা কাগজে কলমে।বাস্তবে তার চিত্র ভিন্ন।আমাদের বিদেশের দিকে আজ ও তাকিয়ে থাকি।বিদেশে এদেশের মানুষ নিম্ন দরের কাজ করে টাকা পাঠাচ্ছে তাই রেমিট্যান্স বাড়ছে।নিজেরা কি করছি সেটা ভাবতে হবে।গার্মেন্টস শিল্প একটা ফ্যাক্টর। যেখানে দেশের মানুষের বিরাট একটা অংশ জীবন জীবিকা চালায়।সেটা বন্ধ থাকায় অনেক সংসারেই কান্নার আওয়াজ পাওয়া যায়।আবার পোশাক শিল্পের পণ্য উৎপাদন না করলে রপ্তানি কারক দেশ গুলো অন্য দেশের সাথে বানিজ্য করবে।মাসের পর মাস পোশাক শিল্প বন্ধ রাখলে আমাদের মত নিম্ন আয়ের দেশের এই শিল্পটা বন্ধ হয়ে গেলে দেশ বড় রকমের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে পড়বে। নানা দিক দিয়ে সমস্যা জর্জরিত। শাখের করাতের মত আসলেও কাটে গেলেও কাটে। আবার লক্ষ লক্ষ এই পোশাক কর্মী রাজধানীর উপর দিয়ে গা ঘেঁষাঘেঁষি করে কাজে গেলে দেশে করোনা রুগীর স্রোত বয়ে যাবে। তাহলে সরকারের কি করণীয়? দেশে সব সেক্টরের আজ এমন দশা।কি থেকে কি করবে মানুষ হতভম্ব। তারপরেও মানুষ ঝুঁকি নিয়ে কাজে যাচ্ছে, অফিস করছে, পণ্য উৎপাদনে নামছে।আমার মনে হয়, বাঁচার জন্য কাজ করতে হবে, কোনো মত বেঁচে থাকার জন্য সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে।করোনা থেকে বাঁচার সমস্ত বিধি অনুসরণ করতে হবে।মনে রাখতে হবে বেঁচে থাকলে জীবনে সব করা যাবে।করোনা কাউকে ক্ষমা করে না।যার যার যায়গা থেকে সেই সেই সকল বিষয়ে নিরাপত্তা বজায় রেখে চলতে হবে।দরকার না হলে বাইরে যেয়ে কি লাভ?বাইরে গেলে বরং নিজে তো মরবেই সাথে পরিবারকে নিয়ে মরবে।

বর্ণমালা ম্যাগাজিন

বর্ণমালা ম্যাগাজিন

প্রযুক্তির উঠোনে অনুভবের বসবাস

One thought on “প্রবন্ধঃবিশ্বাস, অবিশ্বাস, ধর্ম অর্থনীতিঃ করোনা

  1. আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি সম্পাদক মহোদয় কে।
    আর সবাইকে পড়ার জন্য অনুরোধ করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.