কবি রফিকুল ইসলাম’র দুটি কবিতা

কবি রফিকুল ইসলাম’র দুটি কবিতা
এক।
অনির্বাণ ইতিহাস”

অনাকাঙ্খিত ভোর বিকট শব্দ ভয়ার্ত চিৎকার
বারুদের বিষাক্ত গন্ধে বাতাসের শরীর জ্বলে বিভৎস তাণ্ডব চলে
একটি বটবৃক্ষ সমূলে ঢলে পড়ে তৃষ্ণার জলে।
রক্তে রঞ্জিত মানচিত্রের স্বপ্নদ্রষ্টা পুরোধা
সূর্য মধ্যাকাশে পথ হারায়,
মগজে বোধের কণিকা দহনে নিঠুর মরণেও করে ‘মৃত্যুঞ্জয়।
নক্ষত্রপুঞ্জ নির্লিপ্ত রাতের আঁধারে হামাগুড়ি দিয়ে বেড়ায়
অস্তিত্ব শৃগালেরা খুবলে খায়
ঘোমটা ঢাকে জাতি লজ্জায়।
স্বপ্নের অণুবীজে অঙ্কুরোদগম ঘটে স্বাধীন ভূমি কর্ষণে স্বপ্নরা মুখোমুখি দাঁড়ায়
অমরতা খুঁজে পাই কোটি বর্ষের সূর্য সত্তায়।
দুর্দমনীয় প্রেরণা সঞ্চারে নতুন সূর্য জাগে মহাগৌরবে
বুলেটে ঝাঁঝরা বুকে আমৃত্যূ করে জয় সমহিমায় হিমালয়ের মতো সমাসীন রবে।
হে কালজয়ী ইতিহাস স্বস্রষ্টা বঙ্গবীর
হৃদয় ক্ষরণে বয়ে চলে রক্তনদী অসীম অধির।
বিধ্বস্ত জাতির অস্তিত্ব সংকটে তুমি এসেছিলে বিজয়ের রথে,
এসেছিলে, কিংবদন্তির দিগন্ত ছুঁয়ে ছুঁয়ে লাল-সবুজের নতুন সূর্যোদয়ের পথে।
মায়ের আতংকিত দৃষ্টির সীমানা দিয়ে
এসেছিলে ভুমিষ্ঠ শিশুর কাঁন্নার সুরে
ভালোবেসে মা-মাটি মানুষের কাছে
ভয় করে জয় নির্জন কারাগারে।
কে শুধিবে এ রক্তের ঋণ? সম্মোহনীত বাংলার হৃদয়ে চির অমলিন
যার আঙুলের ইশারায় মহাবিপ্লব ঘটে স্বাধীনতা পায় বাংলার জমিন।
বরফ কঠিন শুভ্র-শিখরে চমকায় সূর্যের কিরণ
দৃষ্টি নিবন্ধ দেশ থেকে মহাদেশে
উষ্ণতায় বয়ে যায় তেরোশত নদী অনাদিকালের নির্ঝরিণীর বেশে।

দুই
নিরর্থক সব “

কবিতার পঙক্তি গুলো হারিয়েছে
আলোহীন অন্ধকার আত্মার গুহায়
চরণগুলো পালিয়ে গেছে মৃদুপায়,
হতাশার স্তুপের মতো কবিতার স্তবক
ঠাঁই অপেক্ষায় নিরুপায়।
হাঁটু গেড়ে বসে কবি—আত্মসমর্পণে
মগজ ঠুকরে চুষে ফেলেছে শতাব্দীর
প্রজ্ঞাময় শব্দ সমূহ
গ্রহণে, চাঁদকে গিলেছে জ্যোতির্ময় সূর্য
রাতের গায়ে নেমেছে আঁধার
ঠোঁটের হাসি গিলে ফেলেছে মাইল মাইল
পথ হাঁটা ক্লান্ত কবি—
খালের কিনারে দাঁড়িয়ে তলহীন জলে
পিপাসায় কাতর…
শুধু, শুনতে পায় কিছু শব্দের চিৎকার
নিরর্থক সব, সব নিরর্থক…!

বর্ণমালা ম্যাগাজিন

বর্ণমালা ম্যাগাজিন

প্রযুক্তির উঠোনে অনুভবের বসবাস

Leave a Reply

Your email address will not be published.